কোনো দলের নয়, আইন অনুযায়ী চলবে পুলিশ: প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ভাষণ দেন। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে আইন অনুযায়ী পরিচালনার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পুলিশ কোনো দলের নয়; বরং প্রচলিত বিধি ও আইন অনুযায়ী এই প্রশাসন পরিচালিত হবে। রোববার (১০ মে) সকালে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘কল্যাণ প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পুলিশের সাথে জনগণের আস্থার সম্পর্ক তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “জনগণ যখন বিপদে পড়ে থানায় যায়, তখন আপনাদের আচরণের মধ্য দিয়ে তারা যেন রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন। বিপদে পড়লে মানুষ থানায় যায়, তাই সেখানে যাওয়ার পর মানুষের মনে এই ধারণা তৈরি হওয়া জরুরি যে—এখন তার বিপদ কমবে।” তিনি আরও বলেন, জনগণের কাছে পুলিশ যখন বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠবে, তখনই বাহিনীটি প্রকৃত সাফল্য পাবে। আর পুলিশের এই সাফল্য মানেই সরকারের সাফল্য।


বিগত সরকারের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকারের সময় এখন অতীত। এখন সময় এসেছে নতুনভাবে, জনগণের বন্ধু হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, গুম, অপহরণ বা বিচারবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আর গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।


চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বিগ ডাটা বিশ্লেষণের মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। প্রযুক্তিনির্ভর একটি মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।


সমাজে মাদক, সন্ত্রাস এবং অনলাইন জুয়ার বিস্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, “মাদকের সরবরাহকারী এবং উৎসমূল টার্গেট করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ নির্মূলে পুলিশকে আরও কৌশলী ভূমিকা পালন করতে হবে।”


পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাহিনীর সদস্যদের আবাসন সংকট সমাধান, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, রেশন এবং ঝুঁকি ভাতা বাড়ানোর বিষয়গুলো সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া বদলি, পদোন্নতি কিংবা নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল মেধা, যোগ্যতা এবং সততাকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরা হবে।


বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পথ সহজ নয়, কারণ আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও শাসন কাঠামো হাতে পেয়েছি। রাতারাতি সব প্রত্যাশা পূরণ হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করব।” তিনি একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীকে দেশপ্রেমের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tags:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/popular/default