রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ

0

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী প্রতিনিধি | জনপ্রচার বাংলাদেশ


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং নতুন কমিটি বাতিল করে নির্বাচনের দাবিতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে আটটার দিকে শ্রমিকদের একাংশ হঠাৎ করেই এই কর্মবিরতির ডাক দেন। এর পর থেকে ঢাকা অভিমুখী দূরপাল্লার বাসসহ অভ্যন্তরীণ কোনো রুটেই আর কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া আকস্মিক এই ধর্মঘটের কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২১ সদস্য বিশিষ্ট এই নতুন কমিটিতে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি এবং মোমিনুল ইসলাম মোমিনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে সাধারণ শ্রমিকদের কোনো ভোট বা নির্বাচন ছাড়াই এভাবে কেন্দ্র থেকে কমিটি চাপিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকদের একটি বড় অংশ। তারা সকাল থেকেই রাজপথে নেমে আন্দোলন শুরু করেন এবং দূরপাল্লা ও লোকাল রুটের সব বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।

আরও পড়ুন: যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, সাধারণ শ্রমিকদের মতামত ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ একতরফা ও কেন্দ্রীয়ভাবে এই নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা অনতিবিলম্বে ঘোষিত এই পকেট কমিটি বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আপাতত একটি নিরপেক্ষ আহ্বায়ক বা অ্যাডহক কমিটি গঠন এবং পরবর্তীতে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করার জোর দাবি তোলেন তারা। শ্রমিক নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কোনো সংস্থা থেকে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা বাস চলাচল স্বাভাবিক করবেন না।


এদিকে নতুন ঘোষিত জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি বাস চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শ্রমিকদের একাংশের কর্মবিরতির কথা তিনি শুনেছেন এবং পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্য দিকে, কোনো ধরনের আগাম বার্তা ছাড়া আকস্মিক গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে সাধারণ যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ক্ষুব্ধ যাত্রীদের অভিযোগ, শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর আধিপত্য বিস্তারের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই দূর-দূরান্তে রওনা হয়েও মাঝপথে আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/popular/default