অন্যায্য শাসন ও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আশুরা আমাদের প্রেরণা

0

ছবি: সংগৃহীত

ধর্মীয় ডেস্ক | জনপ্রচার বাংলাদেশ


পবিত্র আশুরা একদিকে যেমন পৃথিবীর ইতিহাসে একটি অত্যন্ত বেদনাবিধুর ও শোকাবহ দিন, অন্যদিকে এটি অন্যায় শাসন এবং শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক চিরন্তন ও অবিরাম প্রেরণা বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এই কথা বলেন।


পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, "১০ই মহররমের এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৌহিত্র হযরত হোসাইন রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু এবং কারবালায় শহীদ হওয়া তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগের স্মৃতি আমাদের হৃদয়কে যেমন ব্যথিত করে, তেমনই বর্তমান যুগের সকল অত্যাচারী শাসনব্যবস্থা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার নতুন প্রতিজ্ঞা জোগায়।"


আহলে বাইত তথা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র পরিবারের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস চর্চা বা অন্য যেকোনো প্রসঙ্গে কথা বলার সময় যেন কারো ভাষা ও শব্দ চয়নে আহলে বাইতের প্রতি বিন্দুমাত্র অশ্রদ্ধা প্রকাশ না পায়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভালোবাসা প্রকাশের নামে কোনো ধরনের অতিরঞ্জন বা অতিরঞ্জিত আচার-অনুষ্ঠান করা এবং শরীয়তের সীমালঙ্ঘন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে হযরত মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুসহ অন্যান্য সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের শানে কোনো ধরনের কটূক্তি বা আপত্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ইসলাম সবসময়ই আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ ওন্যায়সঙ্গত আচরণের শিক্ষা দেয় এবং সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন: সারাবিশ্বে যেভাবে ছড়িয়ে পড়ল শান্তির ধর্ম ইসলাম।

বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, কারবালার ঐতিহাসিক ও মর্মান্তিক ঘটনার বহু আগে থেকেই ইসলামে আশুরার দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ ছিল। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দিনটিকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছেন এবং আশুরার রোজা রাখাকে মহিমান্বিত করেছেন।


তাই এই পবিত্র দিনের মূল শিক্ষা ধারণ করে সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরার আগের বা পরের দিন মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা এবং বেশি বেশি তাসবিহ-তাহলিল ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/popular/default