শাপলা চত্বরের শহীদদের জাতীয় বীরের স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণের দাবি পীর সাহেব চরমোনাইয়ের

0

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রচার বাংলাদেশ ডেস্ক:


২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে সংঘটিত নির্মম ট্র্যাজেডিকে বস্তুনিষ্ঠভাবে না দেখার ঐতিহাসিক ব্যর্থতাই এ দেশে দীর্ঘমেয়াদী স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।


আজ এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই সেদিনের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতি ও হতাহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “শাপলা চত্বরে যারা এ দেশের তাওহিদী জনতার ঈমান-আকিদা রক্ষার আন্দোলনে অংশ নিয়ে শাহাদাৎবরণ করেছেন এবং যারা নির্মমভাবে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের অনতিবিলম্বে ‘জাতীয় বীর’-এর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারকে উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।


পীর সাহেব চরমোনাই অভিযোগ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার শাপলা চত্বরের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের হাজার হাজার আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছিল। বছরের পর বছর ধরে এসব মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তিনি অবিলম্বে শাপলা চত্বর কেন্দ্রিক দায়েরকৃত সকল রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে এসব মামলার কারণে যে সমস্ত মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের উপযুক্ত আইনি ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।


বিবৃতির শেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রতি ঘৃণা এবং প্রতিবাদ জারি রাখা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। দেশের ইতিহাসের এই কালো অধ্যায়ের প্রকৃত সত্য ও নির্মমতাকে আজীবন জাগরূক রাখতে এবং শহীদদের ত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনটিকে স্মরণ করা উচিত। শাপলা চত্বরের নির্মমতার চেতনা থেকেই মূলত পরবর্তীতে গণবিপ্লবের বীজ বপন হয়েছিল, যা আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বড় প্রেরণা জুগিয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/popular/default