
ছবি: জনপ্রচার বাংলাদেশ গ্রাফিক্স
জনপ্রচার বাংলাদেশ ডেস্ক:
ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলা থেকে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে বেকসুর খালাস পেয়েছেন মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য। জানা গেছে, কিশোরীটিকে আসলে ধর্ষণ করেছিলেন তার আপন বড় ভাই মোরশেদ (২২), আর নিজের অপরাধ ঢাকতে সুপরিকল্পিতভাবে দায় চাপানো হয়েছিল নির্দোষ এই ইমামের ওপর।
পরশুরাম মডেল থানার পুলিশ তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন শেষে গত ১৭ এপ্রিল আদালত থেকে মোজাফফরকে অব্যাহতির সুপারিশ করে এবং প্রকৃত অপরাধী মোরশেদকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে মক্তবে পড়া শেষ করার পাঁচ বছর পর ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং একটি সন্তান প্রসব করে। ঘটনার পর ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ভুক্তভোগীর পরিবার মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। মোজাফফর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বারবার অনুনয় করলেও কেউ তা শোনেনি। উল্টো ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মিথ্যা মামলার জেরে মোজাফফর আহমদকে এক মাস দুই দিন কারাভোগ করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে তিনি তার মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরিটি হারিয়ে ফেলেন। আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাতে পৈতৃক ভিটার ৫ শতক জমিও বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। সামাজিকভাবে চরম হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার গ্লানি নিয়ে মানসিকভাবে প্রায় ভেঙে পড়েছিলেন এই তরুণ শিক্ষক।
মামলা চলাকালীন আদালতের নির্দেশে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে মোজাফফর এবং শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে জানা যায়, মোজাফফর ওই শিশুর জৈবিক পিতা নন। এরপর পুলিশি জেরার মুখে কিশোরী স্বীকার করে যে, তাকে তার আপন ভাই মোরশেদ একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। পরিবার মূলত মোরশেদকে আড়াল করতেই ইমামের ওপর দোষ চাপিয়েছিল। ২০২৫ সালের ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন মোরশেদ। চূড়ান্ত ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির ডিএনএর সাথে মোরশেদের ডিএনএ ৯৯.৯৯ শতাংশ মিলে গেছে।
অব্যাহতি পাওয়ার পর মোজাফফর আহমদ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "অবশেষে সত্য প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আমার হারানো সম্মান, চাকরি আর বিক্রি করা জমি কে ফিরিয়ে দেবে? আমি নিরপরাধ হয়েও যে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছি, তার বিচার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাই।"
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীরা এই ঘটনাকে চরম অবিচার হিসেবে অভিহিত করে দোষী পরিবারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে প্রকৃত অপরাধী মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।