ছবি: সংগৃহীত
জনপ্রচার বাংলাদেশ ডেস্ক:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মোবাইল গ্রাহকদের করের বোঝা কমাতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর আরোপিত ১ শতাংশ সারচার্জ বাতিল এবং সিম কর কমানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মোবাইল সেবায় করের চাপ কমতে যাচ্ছে।
২০১৬ সালের মার্চ থেকে পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে মোবাইল সেবায় ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করেছিল সরকার। বর্তমানে সেতু চালু হয়ে গেলেও সাড়ে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল সংযোগকারী প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে ১ টাকা করে সারচার্জ দিয়ে যাচ্ছেন। তথ্যমতে, গত এক দশকে গ্রাহকদের কাছ থেকে এই খাতে প্রায় ২,৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। আগামী বাজেটে এই বাড়তি খরচ থেকে গ্রাহকদের মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।
বর্তমানে প্রতিটি নতুন সিম কেনা বা রিপ্লেসমেন্টের জন্য ৩০০ টাকা কর দিতে হয়। সূত্র অনুযায়ী, এই করের হারও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হতে পারে। অন্যদিকে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতারা প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটাতে ৫ শতাংশ ভ্যাট শূন্যে নামানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে মোবাইল সেবায় ২৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং কার্যকরী ১৮ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। এর ফলে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে একজন গ্রাহক কথা বলা বা ইন্টারনেটের জন্য মাত্র ৫৮ টাকার সুবিধা পান। শুল্কের এই বিশাল চাপের কারণে কলরেট ও ইন্টারনেটের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, "ভোক্তার কাছ থেকে ৩৮ শতাংশ ট্যাক্স নেওয়া এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে মাত্র ২ বা ৪ শতাংশ নেওয়াটা ভারসাম্যপূর্ণ নয়।" সরকার এখন গ্রাহক পর্যায়ে এই বৈষম্য কমিয়ে করের হার সহনীয় করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল অপারেটর এবং আড়াই হাজারের বেশি ব্রডব্যান্ড প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। প্রস্তাবিত এই বাজেট সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল সেবা আরও সস্তা ও সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।