ছবি: জনপ্রচার বাংলাদেশ গ্রাফিক্স
জনপ্রচার বাংলাদেশ ডেস্ক:
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার গত বছরের সেই উত্তপ্ত সামরিক সংঘাত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালে পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিতে সরাসরি কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে চীন। হংকং-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চীনা প্রকৌশলীরা জানান, যুদ্ধের সময় তারা সরাসরি পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিগুলোতে উপস্থিত থেকে যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা বজায় রাখতে কাজ করেছেন। এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়নার (এভিআইসি) প্রকৌশলী ঝাং হেং সেই কঠিন সময়ের বর্ণনা দিয়ে বলেন, “মে মাসের প্রচণ্ড গরমে, যেখানে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে আমরা দিন-রাত যুদ্ধবিমানের গর্জন আর সাইরেনের শব্দের মধ্যে কাজ করেছি। সেটি আমাদের জন্য এক চরম পরীক্ষা ছিল।”
পাকিস্তান বর্তমানে চীনের তৈরি ৪.৫ প্রজন্মের অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। এই বিমানের কার্যকারিতা নিয়ে চীনা প্রকৌশলী জু দা বলেন, যুদ্ধের ময়দানে জে-১০সিই-এর পারফরম্যান্সে তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এই বিমানের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা।
²
এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, পাকিস্তানের মোট সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৮১ শতাংশই চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং অভিযোগ করেছিলেন, চীন মূলত পাকিস্তানকে একটি ‘লাইভ ল্যাব’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা তাদের নতুন অস্ত্র ও গোয়েন্দা প্রযুক্তি ভারতের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করে দেখছে এবং বেইজিং থেকে সরাসরি ভারতের সামরিক অবস্থানের তথ্য ইসলামাবাদকে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) পরিসংখ্যান বলছে, চীন ও পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায়। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চীনের মোট অস্ত্র রপ্তানির ৬৩ শতাংশই গেছে পাকিস্তানে। বর্তমানে পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে ৪০টি পঞ্চম প্রজন্মের ‘জে-৩৫’ স্টিলথ ফাইটার জেট কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে একটি হামলায় ২৬ জন নিহতের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়। এর জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) নয়টি আস্তানায় অভিযান চালায়। সেই সময়কার নেপথ্য ঘটনাপ্রবাহ এখন চীনা প্রকৌশলীদের এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে প্রকাশ্যে এলো।