নতুন পে স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের জন্য বড় চমক

0

ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | জনপ্রচার বাংলাদেশ


নতুন নবম জাতীয় পে স্কেল বা বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ বাড়তি সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই শ্রেণির কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তাদের মূল বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি হারে বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।


সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেলের প্রথম ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে পারে। এই প্রথম ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বিদ্যমান মূল বেতনের (Basic Salary) ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন সুবিধা পাবেন। এর পরবর্তী অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপে আবারও মূল বেতনের ওপর সমপরিমাণ আর্থিক সমন্বয় যুক্ত করা হবে। ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই মূল বেতনের পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় সম্পন্ন করার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

আরও পড়ুন: এক জুলাই থেকে টাকা ট্রান্সফারে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক : গভর্নর

তবে মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ প্রণোদনাসহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক আর্থিক সুবিধাগুলো এখনই একসাথে কার্যকর করা হচ্ছে না। পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, এই সব বাড়তি সুযোগ-সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হতে পারে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিদ্যমান যে সব ভাতা ও সুবিধা চালু রয়েছে, সেগুলো যথারীতি বহাল থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একসাথে সব সুবিধা কার্যকর করলে সরকারের ওপর হঠাৎ বড় ধরনের রাজস্ব ও আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধি করা একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। গত কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বাড়লেও সে অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট হয়নি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে একবারে বড় আকারে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সরকারের জন্য কঠিন। অন্যদিকে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা মাথায় রেখে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা একটি কৌশলী পদক্ষেপ।


জানা গেছে, নতুন এই পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও সমন্বিত নির্দেশনা আসতে পারে। কমিটির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনার বিষয়েও সুপারিশ থাকতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।


এদিকে সরকারি পেনশনভোগীদের জন্যও আসছে বড় সুখবর। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশনের হার শতভাগের কাছাকাছি বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরেই পেনশনভোগীদের জন্য কতটুকু সুবিধা কার্যকর করা হবে, তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

Tags:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/popular/default