কোরবানির হাট কাঁপাবে যশোরের ‘বিসিএস ক্যাডার’

0

ছবি: সংগৃহীত

যশোর প্রতিনিধি | জনপ্রচার বাংলাদেশ

কোরবানির হাটে প্রতি বছরই বাহারি নাম ও বিশাল আকৃতির গরুর দেখা মেলে। তবে এবার ঈদুল আজহার বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে দানব আকৃতির এক সুদর্শন ষাঁড়, যার নাম রাখা হয়েছে ‘বিসিএস ক্যাডার’। ব্যতিক্রমী এই নামের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ঝকঝকে রাজকীয় ভঙ্গির এই ষাঁড়টিকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য উৎসুক মানুষ। খামারির দাবি, এটিই এই মুহূর্তে যশোরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও সুদর্শন গরু।


যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুর এলাকার খামারি মহিদুল জামান কাজল প্রায় দশ মাস আগে ব্রাহমা জাতের এই ষাঁড়টি সংগ্রহ করেন। বর্তমানে এটির ওজন প্রায় ১ হাজার কেজি এবং এর দাম হাঁকা হয়েছে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গরুর এমন অদ্ভুত নামকরণের কারণ জানতে চাইলে পেশায় সমবায় অধিদপ্তরের অডিট অফিসার মহিদুল জামান কাজল জানান, একজন শিক্ষার্থীকে বিসিএস ক্যাডার হতে যেমন বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও মানসম্মত প্রস্তুতি নিতে হয়, ঠিক তেমনি এই ব্রাহমা জাতের গরুটিকে এই পর্যায়ে আনতে বিপুল শ্রম ও যত্ন নিতে হয়েছে। এর আভিজাত্য ধরে রাখতে শ্যাম্পু দিয়ে দুই বেলা গোসল করানো, ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের বাতাস এবং মশার কামড় থেকে বাঁচাতে সার্বক্ষণিক বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। মূলত এই কঠোর পরিশ্রম আর আভিজাত্যের মিল থেকেই শখ করে তিনি এই নাম রেখেছেন।

আরও পড়ুন: সুপারকো জানাল পবত্রি কোরবানীর ঈদের সম্ভাব্য তারিখ

কাজলের খামারে কোরবানির জন্য মোট ৪২টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ওজনের ১ হাজার ১০০ কেজি ওয়ান হোয়াইট হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান গরুটির দাম ধরা হয়েছে ১১ লাখ টাকা এবং পাকিস্তানের শাহীওয়াল জাতের আরেকটি ৮৭৫ কেজি ওজনের গরুর দাম রাখা হয়েছে সাড়ে ৮ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে মাত্র ৫টি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করা কাজলের খামারটি এখন বেশ সমৃদ্ধ। তবে ‘বিসিএস ক্যাডার’ নামটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ বিতর্ক ও বিরূপ মন্তব্যও দেখা গেছে। অনেকের মতে, একটি পশুর ক্ষেত্রে এমন নাম ব্যবহার করা বিসিএস ক্যাডারদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।


যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। এবার জেলায় ১ লাখ ৩ হাজার ১২৮টি পশুর চাহিদার বিপরীতে খামারিদের কাছে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি গবাদিপশু। ফলে চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ১৪ হাজার ৮৪৯টি উদ্বৃত্ত পশু চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনাসহ দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা যাবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান জানান, গো-খাদ্যের দাম চড়া থাকায় খামারিদের দানাদার খাবারের ওপর চাপ কমিয়ে সবুজ ঘাস খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে সীমান্ত দিয়ে এবারও কোনো ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করছে না বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি কর্তৃপক্ষ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/popular/default