ছবি: সংগৃহীত
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | জনপ্রচার বাংলাদেশ
দেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ কেলেঙ্কারি, তারল্য সংকট এবং কিছু ব্যাংকে আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় লেনদেন সীমিত হওয়া ও আর্থিক চাপের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় আমানতকারীরা এখন তাদের কষ্টার্জিত অর্থের সুরক্ষায় তুলনামূলক নিরাপদ ও স্থিতিশীল ব্যাংকের খোঁজ করছেন। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুনাফার চেয়ে টাকার নিরাপত্তা এবং ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তিই গ্রাহকদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক আর্থিক সূচক, মুনাফার হার, খেলাপি ঋণের পরিমাণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংককে বেশ স্থিতিশীল হিসেবে গণ্য করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। আমানত রাখার জন্য তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা বেসরকারি ব্যাংকগুলো হলো:
- ব্র্যাক ব্যাংক (শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে)
- দ্য সিটি ব্যাংক (দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে)
- প্রাইম ব্যাংক
- ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)
- ডাচ্-বাংলা ব্যাংক
- পূবালী ব্যাংক
এছাড়াও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই ব্যাংকিং কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে আরও কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক:
- মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক
- যমুনা ব্যাংক
- শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক
বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের একটি বড় অংশ এখনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ওপর আস্থা বজায় রাখছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ব্যাংকগুলোতে মূলধনের ঝুঁকি কম থাকে, কারণ যেকোনো বড় সংকটে সরকার সরাসরি তারল্য বা আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমানত রাখার ক্ষেত্রে গ্রাহকরা এখনো যেগুলোকে নিরাপদ মনে করেন:
- সোনালী ব্যাংক
- অগ্রণী ব্যাংক
- জনতা ব্যাংক
উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে ছোট অংকের নিয়মিত সঞ্চয়কে ভবিষ্যতের বড় সম্বল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রাহকদের সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন ব্যাংক আকর্ষণীয় ডিপিএস ও সঞ্চয় স্কিম চালু রেখেছে, যার একটি উদাহরণ রূপালী ব্যাংকের ‘আরডিপিএস-৩’ স্কিম। এই স্কিমে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা জমা করে ১০ বছর মেয়াদে প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের সরকারি স্কিমে মূলধনের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত হলেও মুনাফার হার অনেক সময় বাজারভিত্তিক অন্যান্য উচ্চ-ঝুঁকিসম্পন্ন বিনিয়োগের চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষ কেবল অতিরিক্ত লাভের পেছনে না ছুটে ব্যাংকের আর্থিক সচ্ছলতা ও দ্রুত লেনদেনের সুবিধা দেখেই আমানত রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।