জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ফিকে হতে চলছে

0

ছবি: জনপ্রচার বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

নোয়াখালী প্রতিনিধি | জনপ্রচার বাংলাদেশ


প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং দেশের কাঠামোগত পরিবর্তনের অভাবে ২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষা ও মূল প্রত্যাশা ক্রমেই ম্লান হতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। এই রূপান্তরের ধীরগতির কারণে উদ্ভূত জন-অসন্তোষের সম্পূর্ণ দায়ভার বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে বলে তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নোয়াখালীর মাইজদি বাজারে আয়োজিত জেলা ও থানা যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।


চরমোনাই পীর তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে অতীতের সরকারগুলোর চরম ব্যর্থতা এবং আওয়ামী আমলের ফ্যাসিবাদের বাস্তব প্রেক্ষাপট থেকেই ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে নতুন করে বিনির্মাণ করার একটি বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দেশের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা আসায় সাধারণ মানুষের সেই স্বপ্নগুলো এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।


দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, দেশে এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এর ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন পুরোপুরি অতিষ্ঠ ও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দেশজুড়ে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন। অথচ এই সমস্ত জনদুর্ভোগ মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। উল্টো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য নেওয়া অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে, যা জুলাইয়ের মূল চেতনার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।


তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধানতম লক্ষ্যই ছিল জনদুর্ভোগের অবসান ঘটানো এবং স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করা। সরকার যদি জনগণের সেই মৌলিক চাওয়া অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে পুনরায় জনগণের তীব্র ক্ষোভ রাজপথে আছড়ে পড়তে পারে। পরিশেষে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও নিজেদের অঙ্গীকার পূরণে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে মাঠপর্যায়ে জনমানুষের অধিকার আদায়ে সক্রিয় নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে হবে।

Tags:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/popular/default