ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় ডেস্ক | জনপ্রচার বাংলাদেশ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তার তিন কন্যার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীরপাড় সড়ক এলাকায় এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে নিহত শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফার মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনরা কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। হৃদয়বিদারক এই জানাজায় রায়পুরের বিপুলসংখ্যক সাধারণ মুসল্লি ও স্থানীয় জনসাধারণ অংশ নেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া, রায়পুর পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন, রায়পুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল, রায়পুর পৌর জামায়াতের আমীর ফজলুল করিম, নায়েবে আমীর কামাল উদ্দিন, রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আরও পড়ুন: অসুস্থ সময় টিভির সাংবাদিক শফিক মুন্সিকে দেখতে গেলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ
এছাড়া নিহতদের স্বজন জুনাইদ ইসলাম সিফাত, তার নানা দাদন মিয়া, মামা ছানা উল্লাহ এবং চাচা জামাল হোসেনও জানাজায় শরিক হন। এই মর্মান্তিক খবর পেয়ে তারা বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতেই রায়পুরে ছুটে এসেছিলেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, একই পরিবারের চারজনকে নির্মমভাবে হত্যার এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌর শহরের নদীর পাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে মা ও তার তিন মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এক যুবক। নৃশংস এই ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদারকে (২৮) স্থানীয় জনতা ধরে গণপিটুনি দিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেও মারা যায়।