বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

0

ছবি: সংগৃহীত

খেলাধুলা ডেস্ক | জনপ্রচার বাংলাদেশ


চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা এখন সমাপনীলগ্নে। প্রথম পর্বের উত্তেজনা শেষ হতে না হতেই ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পরাশক্তি দল ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন হিসেব কষতে শুরু করেছেন শেষ বত্রিশের বৈতরণী পার হয়ে পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে কোন দল কার মুখোমুখি হতে পারে। আর এই সব সম্ভাব্য সমীকরণের মধ্যে ফুটবল দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বৈরথের সম্ভাবনা!


বিশ্ব রাজনীতির মাঠের চিরবৈরী এই দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা সবসময়ই ‘টক অব দ্য টাউন’। আর তাই ফুটবল বিশ্বকাপের মতো মেগা মঞ্চে তাদের সবুজ গালিচার লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ক্রীড়ামোদী।


চলতি আসরের মাঠের পারফরম্যান্সে ‘ডি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে। শুধু পরের রাউন্ডে যাওয়াই নয়, নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থানও তারা প্রায় পাকা করে নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে প্রথম নকআউট ম্যাচে মার্কিনদের প্রতিপক্ষ হবে অন্য কোনো গ্রুপের তৃতীয় স্থান অধিকারী দল। ফলে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ইরানের মুখোমুখি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই যুক্তরাষ্ট্রের।


অন্যদিকে, নকআউটের টিকিট পেতে ইরানকে এখনো কঠিন সমীকরণ পার করতে হবে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের দুই ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট নিয়ে তারা বর্তমানে ‘জি’ গ্রুপের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। শেষ ষোলোর পথ মসৃণ করতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের লড়তে হবে শক্তিশালী মিসরের বিরুদ্ধে, যারা ইতিমধ্যে গ্রুপসেরা দল হিসেবে নিজেদের জানান দিয়েছে। নকআউটে সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই ইরানিদের সামনে।


হিসেব বলছে, ইরান যদি মিসরকে হারিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ বা সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে নকআউটে পা রাখে এবং প্রথম নকআউট বাধা পার করতে পারে, আর অন্যদিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রও যদি নিজেদের ম্যাচ জিতে এগিয়ে যায়, তবেই শেষ ষোলোর (রাউন্ড অব ১৬) মঞ্চে দেখা যেতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মহারণ।


দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে এই সম্ভাব্য ম্যাচকে ঘিরে পারদ চড়ছে। এমনকি বিশ্বকাপ শুরুর আগে মার্কিন মুলুকে ইরানি ফুটবলারদের অবস্থান নিয়ে নানামুখী আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ফিফার নিয়ম মেনে ম্যাচ খেলার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও, সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থানের অনুমতি না থাকায় প্রতিটি ম্যাচ শেষেই ইরান দলকে ফিরে যেতে হচ্ছে মেক্সিকোতে, যেখানে তারা টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিজেদের মূল আবাসন ও ক্যাম্প তৈরি করেছে।


সবকিছু যদি সমীকরণ মেনে ঠিকঠাক এগোয়, তবে আগামী ৭ জুলাই সিয়াটলে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এই দ্বৈরথটি মঞ্চস্থ হতে পারে। তবে তার আগে দুই দলকেই পার হতে হবে নকআউট পর্বের কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, মাঠের ফুটবলে শেষ পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটে কি না।

Tags:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/popular/default