শান্তি আলোচনা ব্যর্থ: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ।

0

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ না থাকায় অপরিশোধিত তেলের মূল্যে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।


প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ৩.১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৫০ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামও ৩.২১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮.৪৮ ডলারে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা থমকে যাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।


জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ‘ফক্স নিউজ সানডে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ইরান সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বের মোট তেল-গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।


ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশটির একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন যে, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তাদের জাহাজ এই প্রণালি পার হওয়ার সময় বাধার মুখে পড়বে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে। গত শুক্রবার অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করায় ইরানের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।


জ্বালানি তেলের এই উচ্চমূল্যের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম এখন ৪.৫২ ডলারে ঠেকেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৩ ডলারের নিচে। বর্তমানে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার বেশি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/popular/default