![]() |
| ছবি: জনপ্রচার বাংলাদেশ |
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট আলেম মুফতি আমির হামজাকে পৃথক দুটি কারণে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে তার দেয়া কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
১. ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশে আল্টিমেটাম
মুফতি আমির হামজা সম্প্রতি এক জনসভায় দাবি করেন যে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চলমান কাজ বন্ধ রাখার বিনিময়ে তাকে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর স্থানীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়।
গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের এক নেতা তার আইনজীবীর মাধ্যমে আমির হামজাকে প্রথম আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশের মূল বিষয়গুলো হলো:
তথ্য গোপন: ৫০ কোটি টাকার মতো বিশাল অংকের ঘুষের প্রস্তাব যারা দিয়েছে, তাদের নাম প্রকাশ না করা একটি ফৌজদারি অপরাধের শামিল।
আইনি বাধ্যবাধকতা: অপরাধীদের নাম জনসম্মুখে না আনা এবং তাদের আইনের হাতে সোপর্দ না করে তথ্য গোপন রাখায় কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
সময়সীমা: নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
২. জেলা প্রশাসকের বদলি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য
প্রথম নোটিশের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তাকে দ্বিতীয় আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কুষ্টিয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে তিনি উসকানিমূলক ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং এটি প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।
বর্তমান পরিস্থিতি
পরপর দুটি আইনি নোটিশের বিষয়ে মুফতি আমির হামজার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশ করতে না পারলে তিনি আইনি এবং রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই চাপের মুখে পড়তে পারেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অনুসারীরা এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখলেও সাধারণ জনগণের দাবি—ঘুষের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সত্য সামনে আসা জরুরি।
সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।
