| ছবি: সংগৃহীত |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জনপ্রচার বাংলাদেশ
ভবিষ্যতে ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে দিল্লির মানচিত্র ও ভূগোল চিরতরে বদলে যাবে এবং দেশটি ইতিহাসের পাতায় বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ভারতের নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক ‘পাকিস্তানকে ইতিহাস বানিয়ে দেওয়ার’ হুমকির কড়া জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের বিশেষ টকশো ‘ক্যাপিটাল টক’-এ অংশ নিয়ে খাজা আসিফ বলেন, ‘গত ২২ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলা ১৯ দিনের রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতে অপমানজনক পরাজয়ের পর ভারতের সেনাপ্রধান এখন সস্তা বিবৃতির মাধ্যমে নিজের হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন।’
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে ৩৫ সন্ত্রাসী নিহত
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে ভারতের আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন বুনইয়ান-উম-মারসুস’ নামে একটি বড় ধরনের পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। ইসলামাবাদের দাবি, সেই অভিযানে তারা ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালানোর পাশাপাশি অন্তত আটটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান (যার মধ্যে অত্যাধুনিক রাফালও ছিল) এবং বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তীতে টানা ৮৭ ঘণ্টার তীব্র সংঘাতের পর পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মধ্যস্থতায় ১০ মে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘সেই সংঘাতের পর একটি জাতি হিসেবে ভারত গভীরভাবে উপলব্ধি করছে যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের সামরিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
খাজা আসিফ আরও উল্লেখ করেন, ভারত শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যায়েও এখন চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। একসময় বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে ভারত নিজেদের একক প্রভাব বলয়ের অংশ মনে করলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের সাথে আগের সেই একচেটিয়া সম্পর্ক আর অবশিষ্ট নেই। অন্য দিকে, পাকিস্তান এই দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নিজের একটি ‘সম্মানজনক অবস্থান’ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যা দিল্লির নীতিনির্ধারকদের জন্য মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনুষ্ঠানে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে কোনো গোপন পাকিস্তানবিরোধী অক্ষ বা সমন্বয় রয়েছে কি না— এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইসরাইল কখনোই চায় না এই অঞ্চলে তাদের অন্যতম প্রধান কৌশলগত মিত্র ভারতের চেয়ে শক্তিশালী বা প্রভাবশালী আর কোনো দেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক। ফলে পাকিস্তানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা রুখে দিতে ভারত ও ইসরাইলের ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যের মধ্যে একটি গভীর মিল থাকা খুবই স্বাভাবিক।