জনপ্রচার বাংলাদেশ ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক আওয়ামী লীগ নেতার পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্যের যোগ দেওয়া এবং মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভে রাজনীতি ও দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের চার নেতাকর্মী।
গত শনিবার (২ মে) উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম অলি আহমেদের বাসভবনে তাঁর বড় ছেলের বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
সংসদ সদস্যের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার এবং খাবার খাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘সংগ্রামের প্রতি অবমাননা’ বলে অভিহিত করেন।
এরই জেরে ক্ষোভে দল ছাড়ার ঘোষণা দেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিয়ান চৌধুরী রাসেল, জিয়া সাইবার ফোর্সের বিজয়নগর শাখার সভাপতি মুনায়েম মুন্না, ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক সাচ্চু এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা তরিকুল ইসলাম সোহান।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মুনায়েম মুন্না জানান, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। একইভাবে তীব্র হতাশা প্রকাশ করে রাজনীতি বিদায় জানানোর ঘোষণা দেন রিয়ান চৌধুরী রাসেল। অন্য দুই নেতাও একই সুরে তাঁদের সিদ্ধান্ত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে যাঁরা মামলা-হামলার শিকার হয়ে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের জন্য এমন রাজনৈতিক সমঝোতার চিত্র মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগ নেতা এম অলি আহমেদ জানান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরেই তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশার প্রায় দুই থেকে তিন হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বর্তমানে কোনো সক্রিয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও দাবি করেন।
তবে স্পর্শকাতর এই রাজনৈতিক ইস্যুটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য কিংবা বিএনপির জেলা পর্যায়ের কোনো নেতার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।